আদি কোষ(prokaryotic cell)
- প্লাজমা ঝিল্লি (ফসফোলিপিড দ্বিস্তর) কোষের অভ্যন্তরভাগকে এর পরিবেশ থেকে রক্ষা করে এবং এর মধ্যে একটি যোগাযোগ মাধ্যম ও ফিল্টার হিসেবে কাজ করে।
- অধিকাংশ আদি কোষেরই একটি কোষ প্রাচীর রয়েছে; ব্যতিক্রম হল মাইকোপ্লাজমা (এক ধরনের ব্যাক্টেরিয়া) এবং থার্মোপ্লাজমা (একটি আর্কিয়ন)। ব্যাক্টেরিয়ার ক্ষেত্রে কোষ প্রাচীরের মধ্যে পেপটিডোগ্লাইক্যান নামক পদার্থ থাকে যা বাইরের যেকোন শক্তি বিরুদ্ধে একটি বাঁধা হিসেবে কাজ করে। কোষ প্রাচীর কোষকে হাইপোটনিকপরিবেশে অসমোটিক চাপের কারণে বিস্ফোরিত হওয়া (সাইটোলাইসিস) থেকে রক্ষা করে। প্রকৃত কোষেও ক্ষেত্রবিশেষে কোষ প্রাচীর থাকতে দেখা যায় (উদ্ভিদ কোষের সেলুলোজ, ছত্রাক), কিন্তু সেক্ষেত্রে প্রাচীরের রাসায়নিক গঠন ভিন্ন।
- আদি কোষের ক্রোমোসোম একটি বৃত্তাকার অণু। অবশ্য লাইম রোগ সৃষ্টিকারী Borrelia burgdorferi নামক ব্যাক্টেরিয়ার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটে। আদি কোষে প্রকৃত নিউক্লিয়াস না থাকলেও ডিএনএ অণু একটি নিউক্লিঅয়েডের মধ্যে ঘনীভূত থাকে। এরা প্লাজমিড নামক এক্সট্রাক্রোমোসোমাল ডিএনএ মৌল বহন করে যারা সাধারণত বৃত্তাকার। প্লাজমিড কিছু সহযোগী পদার্থ বহন করতে পারে, যেমন এন্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্স।
প্রকৃত কোষ(eukariyotic cell)
- প্লাজমা ঝিল্লি অনেকটা আদি কোষের মতই, তবে কার্যাবলী এবং গঠনে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। কোষ প্রাচীর থাকতে পারে আবার নাও থাকতে পারে।
- প্রকৃত কোষের ডিএনএ এক বা একাধিক রৈখিক অণুতে বিন্যস্ত থাকে যাদেরকে ক্রোমোসোম বলা হয়। ক্রোমোসোম হিস্টোন প্রোটিনের সাথে সম্পর্কিত। সকল কোমোসোমাল ডিএনএ কোষের নিউক্লিয়াসে সজ্জিত থাকে যা একটি ঝিল্লির মাধ্যমে সাইটোপ্লাজম থেকে পৃথকীকৃত থাকে। প্রকৃত কোসের কিছু অঙ্গাণুরও নিজস্ব ডিএনএ রয়েছে।
- এরা সিলিয়া বা ফ্লাজেলা ব্যবহার করে চলাচল করতে পারে। এদের ফ্লাজেলা আদি কোষের তুলনায় জটিল।[৪]
কোষের উপাদানসমূহ
কোষ গবেষণার ইতিহাস
- ১৬৩২ - ১৭২৩ : Anton van Leeuwenhoek নিজে নিজে লেন্স ঘষে নির্দিষ্ট আকারে আনতে শিখেন, তৈরি করেন অণুবীক্ষণ যন্ত্র। এর মাধ্যমে বৃষ্টির পানিতে ভোর্টিসেলা এবং এরকম কিছু প্রোটোজোয়া আবিষ্কার করেন। এছাড়া নিজের মুখে ব্যাক্টেরিয়া আবিষ্কার করেন।
- ১৬৬৫ : আদি প্রকৃতির একটি অণুবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করে রবার্ট হুক প্রথমে কর্ক কোষ আবিষ্কার করেন এবং পরে আরও কিছু জীবন্ত উদ্ভিদ কোষ আবিষ্কার করেন।[৬]
- ১৮৩৯ : জার্মান জীববিজ্ঞানী থিওডোর সোয়ানএবং মাথিয়াস জ্যাকব শ্লেইডেন সকল প্রাণী এবং উদ্ভিদ কোষ দ্বারা গঠিত বলে একটি তত্ত্ব প্রকাশ করেন। তারা বলেন কোষ হল গঠন এবং উন্নয়নের একক। এভাবেই কোষ তত্ত্বের জন্ম হয়।
- লুই পাস্তুর (১৮২২ - ১৮৯৫) মত প্রকাশ করেন যে, জীবন স্বতঃস্ফূর্তভাবে গঠিত হতে পারে। এই তত্ত্বকে generatio spontanea বলে। অবশ্য ১৬৬৮ সালে ফ্রানসেস্কো রেডি একটি পরীক্ষা করেছিলেন যা থেকে একই তত্ত্ব প্রমাণিত হয়।
- Rudolph Virchow বলেন, কোষ সব সময়ই কোষ বিভাজনের মাধ্যমে উৎপত্তি লাভ করে। (omnis cellula ex cellula)
- ১৯৩১ : জেমস ওয়াটসন এবং ফ্রান্সিস ক্রিক ২৮ ফেব্রুয়ারি তারিখে সর্বপ্রথম ডিএনএ অণুর দ্বি-হেলিক্স গঠন আবিষ্কার করেন।
- ১৯৮১ : লিন মার্গুলিস Symbiosis in Cell Evolution নামে একটি বই প্রকাশ করেন। এই বইয়ে এন্ডোসিমবায়োটিক তত্ত্বের বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশিত হয়েছে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন