সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

অণুজীব বিজ্ঞান


অণুজীবসম্পাদনা

অণুজীব বিজ্ঞানী সম্পাদনা

আলোচ্য বিষয়সম্পাদনা

অণুজীব বিজ্ঞান অণুজীবের কোষীয় গঠন, শারীরত্বত্ত (Metabolism), বংশগতি (Genetics), বৃদ্ধি(Growth), বাস্তুসংস্থান (Ecology), বিবর্তণ (Evolution)ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে। তাছাড়া যেহেতু কিছু অণুজীব ( জীবানু) ও অন্যান্যপশু পাখির বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ঘটাতে পারে, ফলে এই সব রোগ, সেই সাথে এদের প্রতিরোধ ও প্রতিকারও অণুজীব বিজ্ঞানে আলোচ্য বিষয়। সেই সাথে আমাদের শরীর কিভাবে এই সব জীবানুর সাথে লড়াই করে তা মূলত অণুজীব বিজ্ঞানেরই আর এক শাখা ইমিউনলজি(immunology) তে আলোচনা করা হয়। জীবনরক্ষাকারী ঔষধ অ্যান্টিবায়োটিক (Antibiotic) অণুজীব বিজ্ঞানের এক বিশাল আবিষ্কার। অ্যান্টিবায়োটিক হল এমন সব পদার্থ যা কিনা একধরনের অণুজীব তৈরি করে এবং তা অন্য অণুজীবের বিপক্ষে কাজ করে। রোগ প্রতিরোধকারী নানা ভ্যাক্সিন ও রোগ প্রতিকারকারী বিভিন্ন ঔষধের এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান স্টেরয়েড অণুজীব হতে পাওয়া যায়।

অণুজীব ও স্বাস্থ্যসম্পাদনা

পরিবেশ অণুজীব বিজ্ঞানসম্পাদনা

অণুজীব বিজ্ঞানের যে শাখায় পরিবেশ ও অণুজীবের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে অণুবাস্তুবিদ্যা (Microbial Ecology) বলা হয়। এই শাখায় অণুজীবের সাথে অণুজীবের; অণুজীবের সাথে অন্যান্য জীবের এবং অণুজীবের সাথে পরিবেশের অজীব (abiotic) উপাদানের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করা হয়। তিনটি প্রধান ডোমেইন যা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ-ইউক্যারিওটা, আরকিয়া ও ব্যাকটেরিয়া। অণুজীব তাদের সর্বব্যাপী উপস্থিতির কারণে জীবসীমায় (biosphere) গুরুত্বপূর্ণ। অণুজীব জীব-ভূতত্ত্বীয় (biogeochemical) নানা প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক ভূমিকা পালন করে।

ফলিত অণুজীব বিজ্ঞানসম্পাদনা

অণুজীব ও খাদ্যসম্পাদনা

অণুজীব বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা হচ্ছে ফলিত অণুজীববিদ্যা (Applied Microbiology)। বিভিন্ন রকম খাদ্য প্রস্তুতি (Preparation)ও প্রক্রিয়াজাত (Processing)করণে অণুজীববিদ্যা অত্যন্ত প্রয়োজনিয় এক বিষয়। দুধ হতে প্রস্তুতকৃত বিভিন্ন খাদ্য যেমন দই, পনির, ছানা ইত্যাদি মূলত দুধের শর্করার ওপর অণুজীবের গাজন (fermentation) প্রক্রিয়ার ফসল। তাছাড়া যেহেতু অনেক খাবার অণুজীবের জৈবিক ক্রিয়ার (Metabolism) দরুন নষ্ট হতে পারে ফলে এগুলোর প্রক্রিয়াজাত করণে অণুজীব বিজ্ঞানের জ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিভিন্ন খাদ্যমান স্বাদকারক উপাদান যেমন টেস্টিং সল্ট এই জৈবিক পদ্ধতিতে উৎপাদন করা হয়। বিভিন্ন দেশে (যেমন জাপান, ইন্দোনেশিয়া, চীন, ভারত ইত্যাদি) অনেক অণুজীবকে খাদ্য হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। আমাদের দেশের বিসিএসআইআর এর বিজ্ঞানীরা আমাদের দেশের আবহাওয়ায় সারা বছর উৎপাদনক্ষম শৈবাল স্পিরুলিনা(Spirulina)আবিষ্কার করেছেন, যা খাদ্য হিসেবে শুধু সুস্বাদুই নয়, সেই সাথে পুষ্টিকরও বটে।

অণুজীব ও জৈবপ্রযুক্তিসম্পাদনা

চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ, কাগজের মন্ড প্রস্তুতি, কাপড় উৎপাদন ইত্যাদি শিল্পে অণুজীবের ঊৎসেচক (enzyme) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে এই সব শিল্প-কারখানায় অণুজীব বিজ্ঞানীর উপস্থিতি অপরিহার্য। তাছাড়া বিভিন্ন বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক পদার্থ যেমন এসিটিক এসিড (Acetic acid) , সাইট্রিক এসিড (Citric acid), এলকোহল(Alcohol), এসিটোন (Acetone), বিউটানল (Butanol), ফিউমারিক এসিড(Fumaric acid), ইত্যাদি জৈবিক পদ্ধতিতে উৎপাদন, রাসায়নিক পদ্ধতিতে উৎপাদন অপেক্ষা সাশ্রয়ী। আর এই জৈবিক কাজটি করে দেয় অণুজীব। জীবনরক্ষাকারী ঔষধ অ্যান্টিবায়োটিক (Antibiotic)অণুজীব বিজ্ঞানের এক বিশাল আবিষ্কার। অ্যান্টিবায়োটিক হল এমন সব পদার্থ যা কিনা একধরনের অণুজীব তৈরি করে এবং তা অন্য অণুজীবের বিপক্ষে কাজ করে।

অণূজীব ও পরিবেশ দুষণসম্পাদনা

আমাদের এই আধুনিক দৈনদ্দিন জীবনে বিজ্ঞানের এক অভিশাপ হচ্ছে দূষণ। এটা থেকে পরিত্রাণের অন্যতম পথ হল অণূজীব। কিছু পদার্থ (যা বিগত কয়েক শতকে আমরা পৃথিবীতে আবির্ভাব ঘটিয়েছি, যেমনঃ প্লাস্টিক, ডিডিটি ইত্যাদি) ছাড়া আর সব পদার্থই কোনো না কোনো অণুজীব তার খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। অবশেষে সে যা নিসৃত করে তা হয় পরিবেশ বান্ধব (Environment friendly)অথবা সেই সাথে বাণিজ্যিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আজকাল অনেক দেশে বিভিন্ন কীট-পতঙ্গ থেকে ফসলকে রক্ষা করতে অণুজীব ব্যবহৃত হচ্ছে।

অণুজীব ও জ্বালানিসম্পাদনা

অণুজীবের আর এক চমক হল জৈবজ্বালানী (biofuel)। কিছু কিছু অণুজীব মিথেন (Methen) গ্যাস উৎপাদন করতে পারে। বাংলাদেশে যে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায় তার প্রায় ৯৬% হল মিথেন, অন্যদিকে অণুজীব কর্তৃক উৎপাদিত জৈবগ্যাসে মিথেন এর পরিমাণ প্রায় ৬০-৭০%। জৈবডিজেল (Biodiesel) দ্বারা এখন ব্রাজিলে গাড়ি চালানো সম্ভব হয়েছে। আসলে জৈবডিজেল হল এলকোহল (মূলত মিথানল), উদ্ভিদ তেল, প্রানিজ তেলের মিশ্রণ। এলকোহল শিল্প-কারখানায় শর্করার হতে গাজন প্রক্রিয়ায় অণূজীবের সাহায্যে তৈরি করা হয়।

অণুজীব ও খনিজ পদার্থসম্পাদনা

অণুজীব ও কৃষিসম্পাদনা

জৈবসারও আসলে অণুজীবের কার্যাবলীর ফসল। জৈবসার হিসেবে মাটিতে নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী ব্যাক্টেরিয়া (যেমনঃ Rhizobium, Azorihobium, Azotobacter) ব্যবহার করা হয় যা মাটিতে প্রয়োজন মতো নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে। তবে আমাদের দেশে ব্যবহৃত গোবরও জৈবসার বলে গণ্য করা হয়। বাংলাদেশে সার তৈরির প্রধান কাঁচামাল গ্যাস শেষ হয়ে গেলে, আমাদের জন্য জৈবসার ব্যবহার করা অনেক লাভজনক হবে। তাছাড়া জৈবসার পরিবেশের উপর কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না।

অণুজীব ও ভেষজবিদ্যা(Pharmacy)সম্পাদনা

অণুজীব বিজ্ঞান ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংসম্পাদনা

অণুজীবের সবচাইতে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হল এদের অনেক বৈশিষ্ট্য জেনেটিক রিকম্বিনেশনের (Genetic Recombination) দ্বারা পরিবর্তণ, পরিবর্ধণ করা যায়। ডায়াবেটিক রুগীর এক অত্যাবশকীয় ঔষধ ইন্সুলিন (Insulin) এখন বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুত করা যাচ্ছে কারণ মানুষের ইন্সুলিন সংশ্লেষণকারী জিন (Gene) আমাদের অন্ত্রের ব্যাক্টেরিয়া ইসচেরিচিয়া কোলাই (Escherichia coli)এর জিনে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। শিল্প ক্ষেত্রে এখন এই রিকম্বিনেন্ট ব্যাক্টেরিয়া থেকেই ব্যাপক পরিমাণে ও সস্তায় ইন্সুলিন প্রস্তুত করা হয়।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

WELFTION Meetup 2019 Dhaka

Notice পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন যোগাযোগ প্রধান সমন্বয়কারী তৌফিক  সুলতান (০১৫১৮৩৮৩৫৬৬) আজাহার উদ্দিন  (০১৬২৯৮২৫২৫৫) ইমেইল towfiqSultan.help gmail.com ফেসবুক গ্রুপ টুইটার হ্যাশট্যাগ:  #ওয়েলফশন #Welftion ওয়েলফশন বাংলাদেশ         ওয়েলফশন~মানবকল্যাণ সংঘ     ওয়েলফশন ~ মানবকল্যাণ সংঘ কর্তৃক আয়োজিত ঢাকা ওয়েলফশন  মিটআপ, অক্টোবর  ২০১৯ তারিখ ও সময়: ৩১ অক্টোবর ২০১৯, ০১:৫০ স্থান: কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার  (ঢাকা শহিদ মিনার ) ঠিকানা: শহিদ মিনার প্রাঙ্গনে  (......ঢাকা মেডিকেল কলেজ বাম পাশে ) সামনের চত্বর,  ঢাকা • ওয়েলফশনারদের আয়োজিত ওয়েলফশনারদের এই মিটআপটি সকলের জন্য উন্মুক্ত  আপনিও আমন্ত্রিত। বিষয়বস বিবিধ আলোচনা  কৌশল বিনিময় চা পর্ব ও বিবিধ আলোচনা অংশগ্রহণকারী তৌফিক সুলতান  আজহার উদ্দিন  জয় হাসান সাইফুল ইসলাম  মতিউর রহমান  আবদুল সালাম  জিহাদ নোটিশ নোটিশ :   ডি.এম.সি.এইচ এ যারা  ইন্টার্নিতে আছেন...

Dhaka Medical Institute

Updated !!আসসালামুয়ালাইকুম!! কেমন আছেন আপনারা সবাই । আশা করি সবাই অনেক অনেক ভাল আছেন.. Dhaka Medical Institute (DMI) Paramedical Department এর সকলকে অাগামিকাল ১৬ জানুয়ারী ২০১৯ তারিখ সকলকে ০২:১৫ মিনিটের মধ্যে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করছি... ©DhakaMedicalInstitute(DMI) ®ParamedicalDepartmentStudent™ !!আসসালামুয়ালাইকুম!! কেমন আছেন আপনারা সবাই । আশা করি সবাই অনেক অনেক ভাল আছেন.. Dhaka Medical Institute (DMI) Paramedical  Department এর সকলকে অাগামিকাল ১৬ জানুয়ারী ২০১৯ তারিখ সকলকে ০২:১৫ মিনিটের মধ্যে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করছি...  ©DhakaMedicalInstitute(DMI) ®ParamedicalDepartmentStudent™ This work is licensed under a Creative Commons Attribution 4.0 International License . ©

ঢাকা মেডিকেল কলেজ

প্রধান মেনু খুলুন©©Aah.Towfiq β অনুসন্ধান সম্পাদনা নজর রাখুন অন্য ভাষায় পড়ুন ঢাকা মেডিকেল কলেজ বাংলাদেশের ঢাকায় অবস্থিত চিকিৎসা বিষয়ক উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং হাসপাতা ল ঢাকা মেডিকেল কলেজ  বাংলাদেশের রাজধানীঢাকায় অবস্থিত একটি সরকারী মেডিকেল কলেজ। এটি ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় যা বর্তমানে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসাবিজ্ঞান বিষয়ক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে ৫ বছর মেয়াদি এমবিবিএসকোর্সে প্রতি বছর ১৯৭ জন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ Dhaka Medical College ঢাকা মেডিকেল কলেজ লোগো ধরন সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপিত ১৯৪৬ প্রশাসনিক অধিভুক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যক্ষ অধ্যাপক খান আবুল কালাম আজাদ পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মিজানুর রহমান অ্যাকাডেমিক কর্মকর্তা ৩,৪০৬ শিক্ষার্থী ১,৫৫০ অবস্থান ঢাকা ,  বাংলাদেশ শিক্ষাঙ্গন  শহুরে, ২৫ একর (০.১০১ বর্গকিলোমিটার) সংক্ষিপ্ত নাম ঢামেক / ডিএমসি ওয়েবসাইট dmc .gov .bd উইকিমিডিয়া | © ওপেনস্ট্রীটম্যাপ ঢা...